অন্যান্য দেশে ওএসডি বা অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি শব্দটির যেই অর্থ, বাংলাদেশে সেই অর্থ বহন করে না। সেসব দেশের জনপ্রশাসনে কিছু কর্মকর্তার ওপর বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়; যাঁরা অন্য কর্মকর্তাদের চেয়ে তুলনামূলক বেশি দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে বিবেচিত। সরকারের প্রয়োজনে তাঁদের ওপর সেই দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। আবার দায়িত্ব শেষে আগের পদে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে ওএসডি কর্মকর্তা অর্থটি অত্যন্ত নিন্দাবাচক হয়ে পড়েছে। একজন সাবেক সচিবের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বিগত ১০ বছরে ওএসডি সরকারি কর্মকর্তাদের তালিকা জমা দিতে বলেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে। তারা নয় বছরের তালিকা দিয়েছে, যাতে দেখা যায় তিন হাজার ৬০৫ জন সরকারি কর্মকর্তাকে ওএসডি করে রাখা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সচিব, অতিরিক্ত সচিবও ছিলেন বা আছেন। তাঁদের পেছনে রাষ্ট্র তথা জনগণের খরচ হয়েছে ১৫০ কোটি ৯১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। এটি গভীর উদ্বেগের বিষয় যে প্রতিটি সরকারই দলীয় স্বার্থে সরকারি কর্মকর্তাদের পাইকারি ওএসডি করে আসছে। আগের সরকারের আমলে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন বা ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সদ্ভাব ছিল মনে করা হয়, তাঁদের ওএসডি করা হয়। নিছক সন্দেহের বশে কাউকে শাস্তি দেওয়া যায় না, যদিও সরকার সেই কাজই করছে। কোনো সরকারি কর্মকর্তা শৃঙ্খলাবিরোধী কিছু করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তো আইনেই রয়েছে। ওএসডি কর্মকর্তাদের বিপরীতে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হলেও বিনিময়ে দেশবাসী কোনো সেবাই পান না। অতীতের কথা বাদ দিলেও বর্তমান সরকারের আমলে শত শত কর্মকর্তাকে ওএসডি করে রাখা হয়েছে, যাঁদের সেবা থেকে দেশ ও জনগণ বঞ্চিত।

By Master

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *