জ্বলে ওঠার প্রয়োজন আজ নেইমারের ৷

জ্বলে উঠতে পারে নেইমার ৷



চলতি এ মৌসুমের শুরুটা নেইমার পারলে ভুলে যেতে চাইবেন। প্রথমে বহুদিন পর ব্রাজিলের আন্তর্জাতিক ট্রফি জয়ের অংশ হতে পারেননি চোটের কারণে। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও বার্সেলোনায় ফিরতে পারেননি। আরেকটি চোট পিএসজির হয়ে মাঠে ফেরাও বারবার বাধাগ্রস্ত করেছে। মেসি-রোনালদোর পর যার শ্রেষ্ঠত্ব বুঝে নেওয়ার কথা ছিল, সেই নেইমারকে মাঠে নামানোর ব্যাপারেও দ্বিধাগ্রস্ত শোনায় পিএসজির কোচকে। সব সমালোচনা উড়িয়ে দেওয়ার জন্য আজকের চেয়ে ভালো আর কোনো উপলক্ষ পাবেন না নেইমার। বার্নাব্যুর মতো স্টেডিয়ামেই তো নিজেকে প্রমাণ করতে হয়!

আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে খেলা নেইমারদের। ম্যাচের আগে নেইমারের আচরণ নিয়ে কথা বলেছেন কোচ টমাস টুখেল। মাঠের নেইমারের চেয়ে মাঠের বাইরের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ যে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের পথে বাধা হয়ে উঠছে সেটা পরিষ্কার বলে দিয়েছেন টুখেল। কিন্তু তার চেয়েও জ্বলুনি ধরানো কথা বলেছিলেন ক্রিস্তফ ডুগারি। ৯৮ এর বিশ্বকাপজয়ী ফ্রেঞ্চ ফুটবলার বর্তমান বিশ্লেষক বলেছিলেন নেইমারের কারণে তাঁদের (ফ্রান্সের) কিলিয়ান এমবাপ্পের মাথা বিগড়ে যাওয়ার ভয়ে আছেন!

চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বশেষ ম্যাচে ক্লাব ব্রাগাকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল পিএসজি। সে ম্যাচে বদলি নেমেও হ্যাটট্রিক করেছিলেন এমবাপ্পে। ম্যাচ শেষে তবু ক্ষুব্ধ শোনাচ্ছিল এমবাপ্পেকে, ‘আমি শুরুতেই নামতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এটা কোচের সিদ্ধান্ত এবং সেটা মানতে হবে। আমি শুধু দেখাতে চেয়েছিলাম আমাকে ছাড়া জেতা কত কঠিন।’ এমন দীপ্ত কণ্ঠেই ভয় পাচ্ছেন ডুগারি। তাদের সোনার ছেলেটা ‘বখে’ যাচ্ছে না তো।

ডুগারি সেদিনই বলেছিলেন, ‘কিলিয়ানকে নিয়ে দেখা স্বপ্ন ভাঙুক, আমি তা চাই না। পিএসজিতে যা দেখছি তা ভালো লাগে আমার, বিনয়। একটা ম্যাচে যেভাবে নামে তারা, কাজ করার ইচ্ছা থাকে। আমি চাই না এখানে অহং বা পরিসংখ্যানের লড়াই চলুক। তুমি ভালো হলে সেটা আমাদের মতো বিশ্লেষকদের বলতে দাও। আমি চাইব এমবাপ্পে ইদ্রিসা গায়া, আন্দের হেরেরা বা অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়ার সঙ্গে মিশুক। এদের সঙ্গে থাকলে মজা কম হবে, নেইমারের সঙ্গে ঘোরা মানে তো সব সময় পার্টি। আমি চাই না এ ছেলেকে নিয়ে দেখা স্বপ্ন নষ্ট হোক। আমার ভয় হচ্ছে, যেকোনো সময় পরিস্থিতি বাজে হয়ে যেতে পারে।’

পিএসজির প্রাণভোমরা হতে চেয়েছিলেন নেইমার। কিন্তু তাঁর চেয়ে ৬ বছরের ছোট এমবাপ্পের নামের আড়ালেই চলে যাচ্ছেন ধীরে ধীরে। উল্টো এমবাপ্পের ভালোর জন্য নেইমারকেই বিক্রি করে দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে! এমনকি এমবাপ্পের ঔদ্ধত্যের দায়ও নেইমারের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। স্কিলের দিক থেকে বিশ্বের সেরা দুজনের মধ্যে থাকা এক ফুটবলারের জন্য বেশ অপমানদায়ক ব্যাপারটি। রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ বহুবার চেষ্টা করেছেন নেইমারকে দলে নেওয়ার। ওদিকে বার্সেলোনা এবার তাঁকে নেওয়ার আশা দেখিয়েও সরে এসেছে। আজ তাই বার্নাব্যুতে আলো জ্বেলে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সুযোগ নেইমারের। কিন্তু নেইমারের আচরণে ক্লান্ত টুখেল কি তাঁকে সে সুযোগ দেবেন?

 
 
Summary

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − five =