Car Gear Indicator

আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন যে অটোমেটিক ট্রান্সমিশন এর গিয়ার শিফটারের সেই অক্ষরগুলির P-R-N-D-S-B অথবা P-R-N-D-2-L অর্থ কী? আর এদের সাথে
শিফট লক এবং ওডি গিয়ারের কাজ কি?
সঠিক জানেন না তো?
ঠিক আছে, আপনি একা নন এই কাতারে আপনার মতোই প্রায় ১০০ মিলিয়ন লোকজন এমন কনফিউশনে আছে পুরো পৃথিবী জুড়ে।এক রিপোর্টে দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রে একাই প্রতিবছর বিক্রি হয় প্রায় 10 মিলিয়নেরও বেশি অটোমেটিক ট্রান্সমিশন চালিত যানবাহন । ট্রান্সমিশন গিয়ার শিফটে তালিকাভুক্ত প্রতিটি বর্ণ বা নম্বর ট্রান্সমিশনের জন্য একটি অনন্য অর্থের প্রতিনিধিত্ব করে। আসুন অটোমেটিক গিয়ার শিফট অর্থের মধ্যে ডুব দেওয়া যাক যাতে প্রতিটি অক্ষর বা সংখ্যার অর্থ আপনি বুঝতে পারেন সহজেই।

অটোমেটিক ট্রান্সমিশনে P এর অর্থ কী? মানে ” P ” দিয়ে কি বোঝায়?
অটোমেটিক ট্রান্সমিশনে অক্ষর গুলো দিয়ে পৃথক পৃথক “গিয়ার” সেটিং এর বর্ণনা করা হয় তবে এটি কিছুটা বিভ্রান্তিকর একদম নতুনদের কাছে। এটি আসলে একটি অ্যাক্টিভেশন সেটিং।

অটোমেটিক গিয়ারে থাকা “P” হল পার্ক সেটিং গিয়ার অর্থাৎ “P” তে গিয়ার লিভারটি সেটা করলে গাড়ি পার্কিং মুডে চলে যাবে , এই অবস্থায় অটোমেটিক ট্রান্সমিশনে ‘গিয়ার’ লক হয়ে যায়, যা চাকাগুলি সামনে বা পিছনে ঘুরতে বাধা প্রদান করবে যার ফলে চাকা গুলো আর ঘুরবে না। অনেকে পার্কিং করার পর “P” তে শিফট করে ব্রেক হিসাবে ব্যবহার করেন আর এটাই নিয়ম।
“P” মুডে থাকলে ইঞ্জিনের শক্তি চাকায় যায় না। তখন ইঞ্জিন আইডল স্পিডে চলে।

সহজ_কথায়: “P” তে শিফট করলে গাড়ি পার্কিং মুডে থাকবে মানে গাড়ি অটোমেটিক লক হয়ে থাকবে।গাড়ি যখন থেমে থাকবে তখন গিয়ার “P”তে দিতে হবে। মানে যখন গাড়ি চালাবেন না তখন এটাতে রাখবেন।

অটোমেটিক ট্রান্সমিশনে “R” এর অর্থ কী? মানে “R” দিয়ে কি বোঝায়?
“R”” এর অর্থ হল REVERSE, অর্থাৎ গাড়ি পিছনে চালানোর জন্য নির্বাচিত গিয়ার হলো”R”। আপনি যখন গিয়ার লিভারটি “P” থেকে “R” এ স্থানান্তর করেন, তখন অটোমেটিক গিয়ার বক্সের ভেতরের কনভার্টার টি গিয়ারটিকে বিপরীত দিকে নিযুক্ত থাকে – যার ফলে ড্রাইভ হুইল পিছনের দিকে ঘুরতে শুরু করে যার ফলে গাড়ি পেছন দিকে মুভ করে।

সহজ_কথায়: “R” এ শিফট করলে গাড়ি ব্যাক গিয়ার বা পেছনে যাবে।

অটোমেটিক ট্রান্সমিশনে “N” এর অর্থ কী? মানে “N” দিয়ে কি বোঝায়?
“N” এমন একটি সূচক যেখানে শিফট করলে আপনার গাড়ি নিউট্রাল মুডে চলে যাবে অর্থাৎ অটোমেটিক ট্রান্সমিশনের গিয়ার বক্সের ড্রাইভ হুইলটি ফ্রি হয়ে যাবে যার ফলে ইঞ্জিনের শক্তি ড্রাইভ ট্রেনে যুক্ত হবে না। যার ফলে ইঞ্জিন চালু থাকার পরও গাড়ি সামনে অথবা পিছনে ইঞ্জিনের শক্তিতে মুভ করতে পারবে না।

কিন্তু “N”এ থাকলে গাড়ি ঠেলে সামনে পিছনে মুভ করানো যাবে।

সহজ_কথায়: “N” এ গিয়ার লিভারটি শিফট করলে গাড়ি নিউট্রাল মুডে চলে যাবে অর্থাৎ ইঞ্জিনের পাওয়ার ড্রাইভ ট্রেনে যাবে না।

মুলত গাড়ি কোন কারনে স্টার্ট না নিলে “N” মুডে দিলে গাড়ি ঠেলে নিয়ে ওয়ার্কশপে গিয়ে কাজ করানো যাবে দেখেই এই মুড সংযুক্ত করা হয়েছে।।

অটোমেটিক ট্রান্সমিশনে “D” এর অর্থ কী? মানে “D” দিয়ে কি বোঝায়?
“D” মানে ড্রাইভ । “D”তে শিফট করলে ড্রাইভ গিয়ার সক্রিয় হয়। “D” তে স্বিফট করলে ড্রাইভ গিয়ার টি চাকার উপর শক্তি প্রয়োগ করবে এবং আপনি যখন আপনার পছন্দসই আরপিএম এ এক্সিলারেটর প্রেস করবেন তখন পছন্দসই স্তরে পৌঁছানোর সাথেসাথে ক্রমশ উচ্চতর ‘গিয়ার্স’ এ স্থানান্তর করবে। গাড়ি ধীর হতে শুরু করার সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভ গিয়ারটি ডাউন গিয়ারগুলিতে ডাউন শিফট হবে। “ডি” কে সাধারণত “ওভারড্রাইভ” হিসাবেও চিহ্নিত করা হয় । এটি অটোমেটিক ট্রান্সমিশনে পরিপূর্ণ গতির ‘গিয়ার্স’ সেটিংস। এই গিয়ারটি হাইওয়েতে ব্যবহার করা হয় বা যখন গাড়িটি একই আরপিএমটিতে প্রসারিত রাস্তার ভ্রমণের জন্য চালিত হয়।

সহজ_কথায়: “D”তে শিফট করলে গাড়ি সামনের দিকে মুভ করতে থাকবে এবং এক্সেলেরেটর প্যাডেল প্রেস করার সাথে সাথে গাড়ির গতি দ্রুত বাড়তে থাকবে এবং এই বৃদ্ধির পরিমাণ তিন থেকে নয় গুন গতি পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে।

অটোমেটিক ট্রান্সমিশনে “S/2” এর অর্থ কী? মানে “S/2” দিয়ে কি বোঝায়?
এস/২ – অনেক গাড়িতে এ রকম গিয়ার অপশন থাকে।
S হলো স্পোর্টসমুড অনেকে এটাকে 2nd গিয়ার ও বলে। এই মুডে শিফট করলে মুলত আপনি অনেক পাওয়ার পাবেন ,এর মানে আপনি লোয়ার গিয়ারে অতিরিক্ত পাওয়ার পাবেন।এই মুডে লোয়ার গিয়ারে টর্ক কমে পাওয়ার বাড়িয়ে দিবে যার দরুন আপনি পাহাড়ে, কোন উঁচু জায়গায় বা গভীর গর্ত থেকে উঠার দরকার হলে অনায়াসে এই গিয়ার ব্যবহার করতে পারেন ।এমন অবস্থা ছাড়া এই গিয়ার ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।অন্যথা আপনার জ্বালানি খরচ বেড়ে যাবে।

অটোমেটিক ট্রান্সমিশনে “B/L” এর অর্থ কী? মানে “B/L” দিয়ে কি বোঝায়?

B/L বর্তমানে অনেক গাড়িতেই L এর পরিবর্তে Bব্যবহার করা হলেও ২টা জিনিসই প্রায় একই অর্থ বহন করে।
মুলত এই গিয়ারে শিফট করলে গাড়ির লোয়ার গিয়ারে টর্ক বেড়ে যাবে পক্ষান্তরে speed কমে যাবে যার দরুন গাড়ি অধিক ট্রাকশন কন্ট্রোল করবে এবং গাড়ি অনায়াসেই উঁচু স্থান থেকে খাড়া ঢাল বা নীচে নামতে পারবে ,তাতে উঁচু স্থান থেকে খাড়া ঢাল বেয়ে নামতে গাড়িকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

OD হলো ওভার ড্রাইভ মেকানিজম অর্থাৎ od প্রেস করলে গাড়ির গিয়ার ফ্রি হয়ে যায় যার কারণে গাড়ির গতি আরপিএম এর অনুপাতে বৃদ্ধি পাবে। টপ গিয়ারের রেশিও থাকে ১:১ সেখানে ওডি প্রেস করলে এর অনুপাত গিয়ে দাঁড়াবে ১:০.৭ যার ফলে ইঞ্জিন যদি ৪০০০ rpm এ চলে ড্রাইভ গিয়ার তখন ৪৩০০rpm এ চলবে।

সহজ_কথায়over : ওডি হলো 4th গিয়ারের ইঞ্জিনে 5th gear এর কাজ করবে।

OD ব্যবহারের নিয়ম: গাড়ির গতি 60 কিলোমিটার পার ঘন্টা ক্রস করলে অডি অন করতে হয় (লক্ষ্য করে দেখবেন সিক্সটি কিলোমিটার স্পিডে নরমালি rpm যা থাকে অডি প্রেস করে পিকআপে বাড়ি দেওয়ার সাথে সাথে rpm কমে আসবে, আশা করি বুঝতে পেরেছেন)

শিফট_লক: শিফট লক দিয়ে গাড়ির স্টার্ট না দিয়েই বা ইগনেশন অন না করেই গিয়ার চেঞ্জ করা যায়।

মনে করেন গাড়ি পার্কিং করা অবস্থায় ব্যাটারি বসে গেছে সেই মুহূর্তে ব্যাটারির হেল্প দেওয়ার জন্য গাড়ি কে দুই হাত পিছনে দেওয়ার দরকার এখন কিভাবে পিছনে দিবেন?
এই মুহূর্তে স্বিফট বাটনে প্রেস করে গাড়িকে নিউট্রাল করবেন তাহলে গাড়ির সামনে অথবা পিছনে নিতে পারবেন।

ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ।

লিখেছেন: Ah Turab

 
 
Summary

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen − seventeen =