৩৩ তম বিসিএস হতে বাংলা ১ম পত্র সমাধান

♪বাক্য রুপান্তরঃ
♪বিপদ ও দু:খ এক সাথে অাসে |
♪বৃষ্টি থামলো এবং অামরা স্কুলে রওয়ানা হলাম
♪ভাবসম্প্রসারণঃ
ক) শৃঙ্খলিত সিংহের চেয়ে স্বাধীন গাধা উত্তম
(স্বাধীন ভাবে নিরস জীবনযাপন করাটাও পরাধীন হয়ে বাহ্যিক অারাম-অায়েশের মধ্যে জীবন-যাপনের চেয়ে ভাল |
খ) ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমা চাঁদ যেন এক ঝলসানো রুটি ;
(সুন্দরের সাধক হলেও মানুষের কাজ শুধু কল্পনার জগৎ নির্মাণ করা নয়, কঠিন ও কঠোর বাস্তবের মুখে তাকে রূঢ় সত্যকে স্বীকার করে চলতে হয় | জীবন ধারণের দাবি যেখানে উপেক্ষিত সেখানে কল্পনা-বিলাসিতা নিরর্থক | রূঢ় বাস্তবতার মোকাবিলাই তখন মূল লক্ষ্য হয়ে দাড়ায় | )
৩) সারমর্মঃ একদা ছিলনা জুকা চরণযুগলে …|
উত্তরঃ মানুষের প্রত্যাশার কোন শেষ নেই | এই অসীম প্রত্যাশা পূরণ ককরতে ননা পারার ব্যর্থতা সব সময় মানুষকে কষ্ট দেয় | কিন্তু কেউ যদি অপরের এরকম অপ্রাপ্তিরর কথা গভীর ভাবে চিন্তা করে তাহলে তার নিজের মনে না পাওয়ার অার কোন দুঃখ থাকে না |
সারাংশ: মহাসমুুদ্রের শত বৎসরের কল্লোল যদি………..এই লাইব্রেরীর সাথে তুলনা হইত |
উত্তরঃ ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতা, অনুরণন, নান্দনিক সৌন্দর্য প্রকাশ তথা শাশ্বত কল্যাণ প্রতিষ্ঠার ভূয়োদর্শন কালো কালির অক্ষরে পুস্তকে লিপিবদ্ধ থাকে | অার গ্রন্থাগারে যুগ-যুগান্তরের সে সম্পদ সঞ্চিত থাকে বলে গ্রন্থাগারই একটি জাতির মননের প্রতীক |
৪) সাহিত্যঃ
ক) চর্যাপদ কে অাবিষ্কার করেন?
উত্তরঃ ১৮৮২ সালে প্রকাশিত Sanskrit Buddhist Literature in Nepal গ্রন্থে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র সর্বপ্রথম নেপালের বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন | রাজেন্দ্রলাল মিত্রের বই হতেই প্রভাবিত হয়েই মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, “চর্যাচর্যবিনিশ্চয়” নামে কিছু পান্ডুলিপি সংগ্রহ করেন | পরবর্তীতে ১৯১৬ সালে “বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ” ‘হাজার বছরের পুরান বাঙালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে প্রকাশিত হয় ড. মহামোহপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর প্রকাশনায় | এটিই পরে চর্যাপদ নামে পরিচিতি পায় |
খ) বাংলা গদ্যের জনক কে?
উত্তরঃ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর |
গ) প্রাবন্ধিক হিসেবে হুমায়ুন অাজাদের কৃতিত্ব অালোচনা করুন |
উত্তরঃ হুমায়ুন অাজাদ ছিলেন একজন মুক্তচিন্তার অধিকারী, ধর্মীয় গোঁড়ামির চরম বিরোধী, দেশপ্রেমিক ও সাহিত্যিক | তার বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উৎপত্তি সম্পর্কে রচনা “লাল নীল দীপাবলি” বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী এবং কতো নদী সরোবর বাংলা অমূল্য সিহিত্য সম্পদ | একজন লেখকের লেখা কখনো যুগের দ্বারা প্রভাবিত হয়, কখনো যুগকে প্রভাবিত করে | হুমায়ুন অাজাদের প্রবন্ধ অামাদের যুগ সময়কে প্রভাবিত করেছে |
ঘ) রবীর তিনটি ছোট গল্পের নামঃ পোস্টমাস্টার (রতন), কাবুলিওয়ালা (মিনি), সুভা (সুভাষিণী)
ঙ) বড়ু চন্ডিদাসের রচিত কাব্যের নাম ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ | ১৩ টি খন্ড অাছে | জন্মখন্ড, তাম্বুলখন্ড, নৌকাখণ্ড, ভারখণ্ড, ছত্রখণ্ড,দানখণ্ড বৃন্দাবনখণ্ড, কালিয়দমনখণ্ড, যমুনাখণ্ড, হারখণ্ড, বাণখণ্ড, বংশীখণ্ড, রাধাবিরহখণ্ড|
চ) মঙ্গল কাব্যঃ
কাব্য অাদিকবি শ্রেষ্ঠ কবি চরিত্র
মনসামঙ্গল কানা হরি নারায়ণদেব বেহুলা
চন্ডী মানিক মুকুন্দ কালকেতু
ধর্মমঙ্গল ময়ূরভট্ট ঘনরাম লাউসেন, হরিশ
অন্নদা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর (১৭০৭-১৭৬০)
ছ) অবসরের গান কবিতাটির লেখক জীবনানন্দ দাস
জ) মানিকের তিনটি উপন্যাস – পদ্মা নদীর মাঝি (১৯৩৬), জননী, পুতুল নাচের ইতিকথা (শশী, কুসুম)
ঝ) ভাষা অান্দোলন ভিত্তিক কবিতার নামঃ
* একুশের প্রথম কবিতা মাহবুব-উল-অালম চৌধুরীর “কাঁদতে অাসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি” |
★ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের ‘শহীদ স্মরণে’
* সিকান্দার অাবু জাফরের “সযগ্রাম চলবেই”
ঞ) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তিনটি উপন্যাসঃ
১) রাইফেল রোটি অাওরাতঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অাশেপাশের অঞ্চলের পাক হানাদার বাহিনীর অাক্রমণ নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়েছে এ উপন্যাসে |
২) দুই সৈনিকঃ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কিভাবে অামাদেরই অাত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে কেউ কেউ পাকিস্তানী মিলিটারি দের সহায়তা করতে গিয়েছিল এবং পরিণামে নিজেদের এবং অাত্মীয় স্বজনদের চীবনে যে দুর্ভোগ নেমে এসেছিল তার বর্ণনা দেয়া হয়েছে |
৩) নির্বাসনঃ হুমায়ুন অাহমেদের এ উপন্যাসটি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে লেখা | অানিস ও প্রেমিকা জারী |
ট) বঙ্গবন্ধুর অসাপ্ত অাত্মজীবনীঃ
* এপ্রিল,২০১২ সালে গ্রন্থটি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড হতে ছাপানো হয় |
*২০০৪ সালে প্রথমে সজরে অাসে
★ ১৯৬৭-১৯৬৯ সাল পর্যন্ত কারাগারে থাকাকালীন সময়ে তিনি রচনা করেন |
ণ) কবিকণ্ঠহারঃ রাজা শিবসিংহ বিদ্যাপতিকে এ উপাধিতে ভূষিত করেন |
কবিকঙ্কনঃ মোদিনীপুর জেলার বাকুড়া রায়ের পুত্র রঘুনাথ মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে এ উপাধি দেন |
রায়গুণাকরঃ মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে এ উপাধি দেন |
ঢ) চার জন বৈষ্ণব কবি :
বিদ্যাপতি: বিদ্যাপতি মিথিলার রাজসভার কবি | রাজা শিবসিংহ তাকে কবিকণ্ঠের মণিহার উপাধিতে ভূষিত করেন | পুরুষপরীক্ষা, ভাগবদ তার রচনা | তিনি ব্রজবুলি ভাষায় পদ রচনা করতেন | তিনি বৈষ্ণব পদাবলীর অাদি রচয়িতা | তাকে অভিনব জয়দেব, মৈথিলী কোকিল নামেও ডাকা হয় | তিনি বলেন-
হে সখি হামারি দু:খের নাহি ওর |
এ ভরা বাদর মাহ ভাদর
শূন্য মন্দির মোর ||
চন্ডিদাস :
চন্ডিদাস বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলী অাদি রচয়িতা | তিনি মধ্যযুগের অাদি কবিও ছিলেন |তিনি চন্ডীমূর্তি বাসলির ভক্ত ছিলেন |তার অমর সৃষ্টি মধ্যযুগের অাদি নিদর্শন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন | শিক্ষিত বাঙ্গালী সমাজ সাহিত্যের রস পায় চন্ডিদাসের রচনা হতেই | চৈতন্যদেব চন্ডিদাসের পদাবলীতে মোহিত হয়েছিলেন | চন্ডিদাস বলেছিলেন-
“সবার উপরে মানুষ সত্য,
তাহার উপরে নাই |
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয় |
জ্ঞানদাস:
সম্ভবত ষোড়শ শতাব্দীতে বর্ধমান জেলায় কবি জ্ঞানদাসের জন্ম | তিনি চন্ডীদাসের কাব্যাদর্শ অনুসরণ করেন এবং তার সঙ্গে নিজ প্রতিভার সমন্বয় করেন | তিনি খাটি ববাংলা ভাষায় পদ ররচনা করেন | তার বিখ্যাত চরণ-
“রূপ লাগি অাঁখি ঝু্রে গুণে মন ভোর |
গোবিন্দদাস:
গোবিন্দদাস বিদ্যাপতির ভাবাদর্শে বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন | বিদ্যাপতির অলঙ্কার ও চিত্রকল্প তাকে মুগ্ধ করেছিল | তিনি কল্পনাকে চমৎকার অলঙ্কার পরিয়ে দেন | তার বিখ্যাত উক্তি-
যাহাঁ যাহাঁ নিকসয়ে তনু তনু জ্যোতি | ত্রকল্প তাকে মুগ্ধ করেছিল | তিনি কল্পনাকে চমৎকার অলঙ্কার পরিয়ে দেন | তার বিখ্যাত উক্তি-
যাহাঁ যাহাঁ নিকসয়ে তনু তনু জ্যোতি |
জীবনী সাহিত্য : মধ্যযুগের গতানুগতিক ধারায় জীবনী সাহিত্য বিশিষ্ট স্থান পেয়েছে | শ্রী চৈতন্যদেব ও তার শীষ্যের জীবন কাহিনী অবলম্বনে এ জীবনী সাহিত্যের উৎপত্তি |চৈতন্য জীবন কাহিনীতে কবিরা অলৌকিকত্ব অারোপ করেছেন | যদিও তিনি এবং তার শিষ্যরা বাস্তব জগতে বিচরণ করেছেন | বাংলা ভাষায় শ্রী চৈতন্যের প্রথম জীবন কাব্য বৃন্দাবন দাসের শ্রীচৈতন্য ভাগবত | চৈতন্যদেবের জীবনী গ্রন্থকে কড়চা বলা হয় | বাংলা ভাষায় শ্রী চৈতন্যদেবের জীবনী ভিত্তক সবচেয়ে বিখ্যাত জীবনী গ্রন্থ চৈতন্যচরিতামৃত | এর রচয়িতা কৃষ্ণদাস কবিরাজ |
প্রশ্নঃ তিনজন নাট্যকারের পরিচয় দিন |
উত্তরঃ মুনীর চৌধুরীঃ ()তিনি কবর, রক্তাক্ত প্রান্তর, চিছি, দন্ড নামক নাটক রচনা করেন |
সেলিম অাল দীনঃ() সেলিম অাল দীনের বিখ্যাত নাটক মুনতাসীর ফ্যান্টাসী, চাকা, বন পাংশুল, যৌবতী কন্যার মন, হাত হাদাই, জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, কী চাহ শঙ্খ চিল ||
হুমায়ূন অাহমেদঃ ()এই নব দিনরাত্রি, কোথাও কেউ নেই, নক্ষত্রের রাত, মন্ত্রী মহোদয়ের অাগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম, চন্দ্র কারিগর, চন্দ্রগ্রহণ, অপরাহ্ণ, রূপালী নক্ষত্র, সবুজ ছায়া, উড়ে যায় বকপক্ষী |
প্রশ্নঃ বাংলা সাহিত্যের তুন জন শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিকোর পরিচয় দিন|
★ শরৎচন্দ্রঃ () বাংলা সাহিত্যের সর্বাধিক জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক ও অপরাজেয় কথাসাহিত্যিক হলেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | তিনি বাঙ্গালীর অাবেগশ্রুতকে খুলে দিয়েছিলেন এবং সে অাবেগে বিমোহিত হয়েছিলেন পাঠকেরা | তিনি সামাজিক ভাবে নিষিদ্ধ কিছু ব্যাপার সামনে নিয়ে অাসেন এবং সেগুলোকে মহিমা দান করেছিলেন | শ্রীকান্ত তার অনবদ্য সৃষ্টি |
★ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ঃ() তাকে বাংলা সাহিত্যের জনক বলা হয় | তার রচিত উপন্যাস “দুর্গেশ নন্দিনী” বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস | বিষয়বস্তুর অসাধারণত্বের উপর প্রাধাণ্য অারোপের চেষ্টা, উপন্যাস কাঠামো নির্মাণে নৈয়ায়িক বা তার্কিক শৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা এবং মননশীলতাজনিত সুষমতার প্রয়োগের জন্য তিনি বিখ্যাত |
★ পদ্মানদীর মাঝিঃ () তিরিশের দশকের বাংলা কথাসাহিত্যের যে পালাবদল বাংলা গল্প ও উপন্যাসের নতুন এক বিশ্ব নির্মাণকে সম্ভপর করে তুলেছিল, তিনি ছিলেন তার প্রধান স্থপতি | তার জনপ্রিয় উপন্যাস পদ্মানদীর মাঝি এবং শ্রেষ্ঠ উপন্যাস পুতুল নাচের ইতিকথা |

কৃষিবিদ কাওছার হোসেন

Add Comment

Required fields are marked *. Your email address will not be published.

one × two =