কবিওয়ালা ও শায়ের

বাংলা সাহিত্য

☆….কবিওয়ালা ও শায়ের….☆
………………..­…………..
আঠার শতকের শেষার্ধে ও উনিশ শতকের প্রথমার্ধে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিপর্যয়ের মুখে কলকাতার হিন্দু সমাজে ‘কবিওয়ালা বা সরকার’ এবং মুসলমান সমাজে ‘শায়ের’-এর আবির্ভাব হয়। ভারতচন্দ্রের মৃত্যু থেকে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সময়কাল পর্যন্ত কবিওয়ালা ও শায়েরদের জনপ্রিয়তা ছিল।
………………..­…………….
>>>> কবিওয়ালা <<<<
→ কবিওয়ালারা রচনা করতেন – কবিগান
→ কবিগানের আদিগুরু – গোঁজলা গুই
→ কবিওয়ালাদের সহকারীদের বলা হতো – দোহার
→ সর্বপ্রথম কবিগান সংগ্রহ করতে শুরু করেন – কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, ১৮৫৪ সালে এবং সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রকাশ করেন।
→ উল্লেখযোগ্য কবিওয়ালা হলেন – গোঁজলা গুই, হরু ঠাকুর, ভবানী বেনে, ভোলা ময়রা, নিতাই বৈরাগী, এন্টনি ফিরিঙ্গি, নিধুবাবু, দাশরথি রায় প্রমুখ।
………………..­……………….
>>>> শায়ের <<<<
→ শায়েরগণ রচনা করতেন – দোভাষী পুঁথি বা পুঁথি সাহিত্য।
→ বাংলা, আরবি, ফারসি, উর্দু, ‍তুর্কি ও হিন্দি প্রভৃতি ভাষার সংমিশ্রণে ইতিহাসাশ্রিত কাল্পনিক কাহিনী থেকে বিষয়বস্তু গ্রহণ করে রচিত হতো – দোভাষী পুঁথি বা পুঁথি সাহিত্য।
→ এ সাহিত্য কলকাতার সস্তা প্রেস থেকে ছাপা হতো বলে – বটতলার পুঁথি বলা হতো।
→ উল্লেখযোগ্য শায়ের – ফকির গরীবুল্লাহ, সৈয়দ হামজা, মোহাম্মদ দানেশ, আবদুর রহিম, মুহম্মদ মুনশী, সাদ আলী প্রমুখ।
→ পুঁথি সাহিত্য ধারার প্রথম কাব্য – রায়মঙ্গল। রচয়িতা কবি কৃষ্ণদাস দাস।
→ দোভাষী পুঁথি সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি – ফকির গরীবুল্লাহ। তার কাব্য ‘জঙ্গনামা’।
→ পুঁথি সাহিত্যের প্রাচীনতম কবি – সৈয়দ হামজা।
সূত্র : শীকর বাংলা সাহিত্য।

Mohsina Nazila

Add Comment

Required fields are marked *. Your email address will not be published.

eight + eleven =