অন্য ঘরে অন্য স্বর

গল্প :- “অন্য ঘরে অন্য স্বর” (আখতারুজ্জামান ইলিয়াস)
কাহিনী সংক্ষেপ :-
অন্যঘর অন্য স্বর’ গল্পে অনেকদিন বাদে প্রদীপ এসেছে তার পিসির বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। তারা এদেশ (বাংলাদেশ) ত্যাগ করে চলে গেছে ইন্ডিয়ায়। প্রদীপ ১২-১৩ বছর আগের শহরটা চিনে নিচ্ছিল আবার। কোনো পরিবর্তন হয়নি। আবার হয়েছেও। সে খুব সূক্ষ্ম, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস তা ধরতে চেয়েছেন নানা অনুভূতির মধ্য দিয়ে। তাঁর গল্পে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুর স্বর শোনা গেছে স্পষ্ট।
তিনি ছিলেন ছোটগল্পের সূক্ষ্ম শিল্পী। ‘অন্যঘরে অন্যস্বর’ গল্পে ভারত থেকে আসা প্রদীপ তার পিসতুতো ভাই ননীদার আড়তে যায়। ভেবেছিল তাকে দেখে কর্মচারী ব্যস্ত হয়ে উঠবে। তারা তাকে চেনে। কিন্তু গিয়ে দ্যাখে ননীদাই নেই। কর্মচারীরা তেমন পাত্তা দেয় না। বাবু নাই বলে, হিসেব মেলাতে লাগল। প্রদীপ ভাবে পিসির বাড়িই চলে যাই। সেই ভাল। ননীদা কখন ফিরবে তা জানে না। তখন আড়তের সামনে একটি রিকশা এসে থামে। লাফ দিয়ে নেমে পড়ে ১৮-১৯ বছরের দুটি যুবক। ওরা ঢুকতেই আড়ত তোলপাড় হয়ে গেল। আসেন বসেন করে আহবান জানিয়ে তাদের বলে, বাবু একটু এস,ডি,ও অফিসে গেছে। তারপর এস,ডি,ও অফিস থেকেই ননী সাহাকে ডেকে আনা হয়। তাদের ডানহিল সিগারেট দিয়ে আপ্যায়ন, রসমালাই খাওয়ানো এবং কনফারেন্সের চাঁদা দিয়ে বিদায়।
ননীদার মেয়েটি বড় হয়েছে। যারা টাকা আদায় করে, যাদের নিয়ত তোয়াজ করে ননীদা, তাদের ভয়েই ননীদার মেয়েটি কলেজে যেতে পারে না। সপ্তাহে তিন-চারটি কনফারেন্স লেগে আছে। ব্যবসা কী করে হবে? টাকা তো তোলাবাজদের পেটেই যাচ্ছে। এই গল্পে সংখ্যালঘুদের স্বর আছে ব্যপ্ত হয়ে। তার ভিতরে, স্মৃতি, শিকড় উপড়ে দেশ ছেড়ে যাওয়া, বুড়ি পিসিমার ভালবাসার স্বরে মিলে মিশে গেছে। একটা দেশ কত রকমে জড়িয়ে থেকে মানুষের জীবনে, একটা জীবন কত স্মৃতি বাহিত হয়ে ওঠে, গল্পটি পাঠ যেন সেই মায়াময় অভিজ্ঞতা। সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারটির ভিতরে গোপনে ছাড়িয়ে গেছে নিরাপত্তাহীনতা। তা আছে সূক্ষ হয়ে। দেশ ছাড়ার উপায় নেই। ইন্ডিয়া গিয়ে ব্যবসা হবে? পাকিস্তানে তো অনিরাপত্তা ছিল, তা বদলায়নি বাংলাদেশ হয়েও। এই গল্পে পিসিমা যেন সেই বাংলাদেশ হয়ে আছেন, যে বাংলাদেশ ছিল সংখ্যালঘুর স্বপ্ন। যে জীবনে তিনি এখনো লগ্ন হয়ে আছেন, তা বড় স্নিগ্ধ।

পবন চৌধুরী

Add Comment

Required fields are marked *. Your email address will not be published.

5 + 3 =